বৈষম্যমুক্ত অন্তর্ভূক্তিমূলক স্মার্ট সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলবো: পলক
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার আনন্দপুরের ৮০ একর জায়গার ওপর ৮০ কোটি টাকা ব্যায়ে শুরু হলো ৬০ হাজার বর্গফুট শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপনের কাজ। বুধবার সেন্টারটির নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাই আহমেদ পলক। এসময় সাবেক বেসরকারি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী অ্যাড মাহবুব আলী, স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবু জাহিদ উপস্থিত ছিলেন।
এরপর স্থানীয় শিল্পকলা একাডেমিতে জিএসএম জাফর উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পরবর্তী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, তরুণদের আত্ম নির্ভরশীল হয়ে আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিতেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আমাদের নীতি- কথা কম, কাজ বেশি; এবং সময়নুবর্তীতা অনুসরণ করা। শুধু সময় মতো না; সময়ের আগে আমরা কাজ করতে চাই। হবিগঞ্জে যখন আইটি পার্ক নির্মাণ শেষ হবে তখন বাংলাদেশে আইসিটি খাতে আরো নতুন করে ৩০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হবো। আইসিটি থেকে রফতানি আয় ৫ বিলিয়নে উন্নীত করতে পারবো। এভাবেই আমরা একটি বৈষম্যমুক্ত অন্তর্ভূক্তিমূলক স্মার্ট সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলবো।
পলক আরো বলেন, এই ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন হলে প্রতি বছর হবিগঞ্জের এক হাজার ছেলে মেয়ে সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে। এর বাইরেও হাজার হাজার ছেলে-মেয়ে সরাসরি ও ভার্চুয়ালি প্রশিক্ষণ পাবে। তাদের ঢাকামুখী হতে হবে না। চাকরির পিছনে ছুটতে হবে না।
বক্তব্যে স্থানীয় কয়েকজ সফল ফ্রিল্যান্সারের নাম উল্লেখ করে জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, যারা চাকরির পিছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হয়েছে তারাই আরো অনেকের চাকরি সৃষ্টি করেছে। এজন্যই ২০১৬ সালে আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ভাই কাউকে মাছ উপহার না দিয়ে মৎস শিকারের প্রশিক্ষণ দিয়ে জীবিকা নির্বাহর ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। দ্রুত পরিবর্তনশীল পৃথিবীর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে আমাদের নতুন ধরনের দক্ষতা উন্নয়নে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জন্ম-মৃত্যু পর্যন্ত প্রত্যেকটি সেবাকে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে সহজ,সুলভ ও দুর্নীতিমুক্ত করেছেন।
আইসিটি বিভাগের, সুরক্ষা, ৯৯৯, ৩৩৩ নম্বর এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিচার ও প্রশাসনিক কাজে সরকারের ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে বর্তমান সরকার মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তুলছে মন্তব্য করে প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, একসময় প্রাইমারি স্কুলের হেডমাস্টাররা নির্ধারণ করতো কার জন্মদিন কবে হবে। সরকারি চাকরি যেনো ২-৪ বছর বেশি করতে পারে সে জন্য অপসংস্কৃতি ছিলো। আজকে ডিজিটাল বাংলাদেশে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত ডিজিটাল নিবন্ধনের আওতায় আনায় করোনার সময় ১৭ কোটি মানুষ এর সুফল পাওয়া গেছে।
লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং প্রকল্প পরিচালক হুমায়ুন কবির, শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবিশন সেন্টার স্থাপন প্রকল্প পরিচালক মোঃ আতিক, ই-ক্যাব যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসিমা আক্তার নিশা প্রমুখ এসময় উপস্থিত ছিলেন।







